এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বৃষ্টিপাতে প্লাবিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহর। পাতাল রেল পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি গ্রাউন্ড লেভেলে থাকা অ্যাপার্টমেন্টগুলো তলিয়ে গেছে, কিছু রাস্তায় এখন পানি ঠেলে চলতে হচ্ছে গাড়িগুলোকে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল শহরটির কিছু অংশে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিলিমিটার (৮ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী দিনের পরবর্তী সময়ে আরও বৃষ্টি হওয়ার কথা।
নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকল ‘মারাত্মক’ বন্যার হুঁশিয়ারি জানিয়ে নিউ ইয়র্ক শহর, লং আইল্যান্ড ও হাডসন ভ্যালিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ন্যাশনাল গার্ডের কিছু সেনাও মোতায়েন করা হয়েছে।
নগরীর মামারনেক এলাকায় জরুরি পরিষেবার কর্মকর্তারা পানিতে তলিয়ে যাওয়া ভবনগুলোর আটকা পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে রাবারের ডিঙি ব্যবহার করেন।
নগরীর মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন এজেন্সি জানিয়েছে, ব্যাপক জলাবদ্ধতার কারণে নিউ ইয়র্ক সাবওয়ে সিস্টেম এবং মেট্রো নর্থ কমিউটার রেল পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
পাতাল রেলের কিছু লাইনে রেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে এবং এসব লাইনের স্টেশনগুলো বন্ধ আছে। কিছু বাসের রুটে যান চলাচলে অস্বাভাবিক ধীর গতির জন্য যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকছেন।
প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে না সরে যাওয়া পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের কিছু এলাকার বাসিন্দাদের ভ্রমণ এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের নিউ ইয়র্ক দপ্তর জানিয়েছে, ১৯৪৮ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে নিউ ইয়র্কের জন এ এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য শুক্রবার সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল দিন ছিল।
হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও নগরীর সরকারি স্কুলগুলো এদিন খোলা ছিল। কিছু স্কুল ভবনে পানি ঢুকলেও কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়নি বলে সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
জলবায়ু বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা বিশ্বের বহু অঞ্চলকে প্রায়ই চরম আবহাওয়ার মুখোমুথি করছে। নিউ ইয়র্ক শহরসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অংশেও ঘন ঘন আবহাওয়ার এরকম ধরন দেখা যাচ্ছে।
