চাপ সামলে দারুণ ব্যাটিংয়ে ভিত গড়লেন সাকিব আল হাসান, তাওহিদ হৃদয়। শেষ দিকে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে দলকে আড়াইশ পার করালেন নাসুম আহমেদ। অভিষেকে নতুন বলে আগুন ঝরালেন তানজিম হাসান। ডেথ ওভারে অভিজ্ঞতার ছাপ রাখলেন মুস্তাফিজুর রহমান। দলগত নৈপূন্যে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৬ রানে। ২৬৬ রানের লক্ষ্যে এক বল বাকি থাকতেই ২৫৯ রানে গুটিয়ে গেছে রোহিত শার্মার দল।
এ নিয়ে ভারতের বিপক্ষে শেষ চার ম্যাচের তিনটিই জিতল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে জয় প্রায় ১১ বছর পর।
আগেই দুই ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় নিয়মরক্ষার ম্যাচটিতে দুই দলই নিজেদের একাদশে আনে একগাদা পরিবর্তন। সেই সুযোগে প্রথমবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নেমেই নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন তানজিম। নতুন বলে তিনিই নাড়িয়ে দেন ভারতের টপ-অর্ডার।
রোহিত ও ভারতের অভিষিক্ত তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান তিলাক ভার্মার উইকেট নেন তানজিম। শুরুর চাপ সামলে এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন শুবমান গিল।
ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিতে ১২১ রান করেন তরুণ ওপেনার। ১৩৩ বলের ইনিংসে ৮ চারের সঙ্গে মারেন ৫টি ছক্কা। গিল ফেরার পর ভারতকে এগিয়ে নিতে থাকেন আকসার প্যাটেল।
চার বলের মধ্যে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান মুস্তাফিজ। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৪ বলে ৪২ রান করেন আকসার। যা স্রেফ পরাজয়ের ব্যবধানই কমায়।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এছাড়া ডেথ ওভারে দারুণ বোলিং করা শেখ মেহেদি হাসান ও তানজিম ধরেন ২টি করে শিকার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাচের প্রথমভাগে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের টপ-অর্ডার। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তানজিদ হাসান, এনামুল হকরা। লিটন দাস ফেরেন খালি হাতে।
স্রেফ ৫৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর হৃদয়ের সঙ্গে ১০১ রানের জুটি গড়েন সাকিব। দারুণ ব্যাটিং করে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৫ বলে ৮০ রান নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। হৃদয় খেলেন ৮১ বলে ৫৪ রানের ইনিংস।
শেষ দিকে বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের মতোই খেলেন নাসুম। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৫ বলে তিনি করেন ৪৪ রান। এছাড়া শেখ মেহেদি ২৩ বলে ২৯ ও তানজিম ৮ বলে করেন ১৪ রান।
একই মাঠে আগামী রোববার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (তানজিদ ১৩, লিটন ০, এনামুল ৪, সাকিব ৮০, মিরাজ ১৩, হৃদয় ৫৪, শামিম ১, নাসুম ৪৪, শেখ মেহেদি ২৯*, তানজিম ১৪*; শামি ৮-১-৩২-২, শার্দুল ১০-০-৬৫-৩, কৃষ্ণা ৯-০-৪৩-১, আকসার ৯-০-৪৭-১, তিলাক ৪-০-২১-০, জাদেজা ১০-১-৫৩-১)
ভারত: ৪৯.৫ ওভারে ২৫৯ (রোহিত ০, গিল ১২১, তিলাক ৫, রাহুল ১৯, কিষান ৫, সুরিয়াকুমার ২৬, জাদেজা ৭, আকসার ৪২, শার্দুল ১১, শামি ৬, কৃষ্ণা ০*; তানজিম ৭.৫-১-৩২-২, মুস্তাফিজ ৮-০-৫০-৩, নাসুম ১০-০-৫০-০, সাকিব ১০-২-৪৩-১, শেখ মেহেদি ৯-১-৫০-২, মিরাজ ৫-০-২৯-১)
ফল: বাংলাদেশ ৬ রানে জয়ী
