ঘূর্ণিঝড়ের পর বন্যায় বাঁধ ভেঙে চার দিন আগে লিবিয়ার দেরনা শহরের ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তার ধ্বংসচিত্র স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বানের পানির তোড়ে সাগরে ভেসে যাওয়া বাসিন্দাদের মৃতদেহগুলো এখন ভেসে আসছে উপকূলে।
লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনের একজন মন্ত্রী জানান, সমুদ্র থেকে ক্রমাগত অসংখ্য মৃতদেহ ভেসে আসছে। জামাকাপড়, খেলনা, আসবাবপত্র, জুতা এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে সৈকত। অনেক পরিবারের সব সদস্য হয় মা*রা গেছে, না হয় নিখোঁজ রয়েছে।
বুধবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৩০০টির বেশি মৃতদেহ উদ্ধারের খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নিখোঁজ রয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ।
বন্যা পুরো অঞ্চলে যে ক্ষতি করে গেছে, তাতে নিহতের সংখ্যা ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজারে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেরনার মেয়র আব্দুলমেনাম আল-গাইতি।
উসামা আল হুসাদি নামে ৫২ বছরের এক গাড়ি চালক তার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে তিন দিন ধরে পাগলের মত খুঁজে চলেছেন। তিনি জানান, তার বাবার বাড়ির দিকের প্রায় ৫০ জন আত্মীয় হয় মারা গেছেন বা নিখোঁজ আছেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর গ্রিসের উপকূলে ভূমধ্যসাগরে তৈরি হয়েছিল ঝড় ‘ড্যানিয়েল’। সেই ঝড়ের প্রভাবে লিবিয়ায় রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়, তাতে দেখা দেয় বন্যা। ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় আল-বায়দা, আল-মার্জ, তোবরুক, বাতাহর মত শহর।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয় দেরনা ও বেনগাজির। বানের পানির তোড়ে দেরনা শহরের বাঁধ ভেঙে যায়। প্রবল স্রোত সুনামির মত ভাসিয়ে নিয়ে যায় শহরের এক চতুর্থাংশ।
২০১১ সালে মুয়াম্মর গাদ্দাফির পতন এবং তাকে হত্যার পর লিবিয়ায় আর শান্তি ফেরেনি। সেখানে দুটি আঞ্চলিক প্রশাসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল শাসন করছে।
বিশেষজ্ঞরা সেই ২০১১ সাল থেকে দেরনা বাঁধ যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এলেও সংস্কারের কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয় আলোকচিত্র সাংবাদিক তাহা মুফতাহ।
