দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান আত্মসমর্পণ করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালতের বিচারক।
রোববার বেলা সোয়া একটার দিকে ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ জজ আবুল কাসেম এ আদেশ দেন।
বেলা সোয়া ১২টার কিছু পর বিএনপি নেতা আদালতে এলে তার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন, মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন জামিন আবেদন করেন। বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আবদুল্লাহ আবু।
পরে বিএনপি নেতাকে কারাগারে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়া ও চিকিৎসার আবেদন করেন আইনজীবীরা। আমান গরমে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়েছেন দাবি করে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগারে পাঠানোর অনুরোধও করেন তারা।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমান নির্দোষ। আপিল বিভাগ থেকে তিনি শিগগিরই জামিন পাবেন। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ২০০৭ সালে আমানের ১৩ বছর ও তার স্ত্রী সাবেরা আমানের তিন বছরের সাজা হয়।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১০ সালে ১৬ অগাস্ট দুই জনকে খালাস দেয় হাই কোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আপিল করলে খালাসের রায় বাতিল করে হাই কোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।
নতুন করে শুনানি নিয়ে গত ৩০ মে রায় দণ্ড বহাল রেখে রায় দেয় হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ। বিচারিক আদালত রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আমান ও সাবেরাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশও আসে।
গত ৭ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। নির্দেশনা অনুসারে গত ৩ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করেন সাবেরা। সেদিন ঢাকার বিশেষ জজ-১ আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।
পরদিন হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে জামিন চান সাবেরা। গত মঙ্গলবার তার আবেদন গ্রহণ করেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।
