চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারার বিরোধে অন্য ভাইরা মিলে এক ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে রক্ত ঝরিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মাদার বাড়ি এলাকায় শামশুল হক ভান্ডারীর ছেলেদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
আহত হলেন, মো.মহিউদ্দিন (৩৮)।
জানা যায়, মাদার বাড়ির শামসুল হক ভান্ডারীর ৩ ছেলে মো. মহিউদদীন, মো. শহিদ ও মো. সেলিমদের পৈতৃক জায়গা সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওচমান আলী তাদের ইউনিয়ন পরিষদে সালিশী বৈঠকের জন্য গত বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত ভাবে দিনক্ষণ ঠিক করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান ব্যবসায়িক কাজে কক্সবাজার থাকার কারণে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
আহত মো. মহিউদ্দিন বলেন, বৈঠকের আগেই আমার ভাই শহিদ আর সেলিম তাদের শশুরবাড়ির লোকজন মিলে আমাকে দা-ছুরি নিয়ে আঘাত করেন এবং লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেন। এসময় আমার বন্ধু সাইফুল বাঁচাতে গেলে তাকেও মেরে তার পকেটে থাকা টাকা নিয়ে গেছে এবং বাড়িতে থাকা আমার মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযুক্ত মহিউদ্দিনের বড় ভাই মো. শহিদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে সালিশি বৈঠকের জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। তখন বাড়ি থেকে বাবা আমাকে ফোন করে জানায়- আমার ছোট ভাই মহিউদ্দীন ও তাঁর বন্ধু সাইফুল মিলে আমার বাবাকে দরজা বন্ধ করে আটকে রেখেছেন। তখন আমি ঘরে গিয়ে দেখি মহিউদ্দিন ও সাইফুল সেখানে বাবাদের সাথে তর্কাতর্কি করছে। এসময় মহিউদ্দিনের মাথায় কে আঘাত করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মহিউদ্দিন সবার সামনে নিজে নিজেই দেয়ালে মাথা টুকে মাথা ফাটিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.মহসিন বলেন, মারামারির সময় আমি ছিলাম না, তবে ভাইদের মধ্যে মারামারির কথা শুনেছি।
বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে কেঁওচিয়া ইউনিয়ন (ইউপি) চেয়ারম্যান ওচমান আলী বলেন, বৈঠকের আগে তারা মারামারি করে জিনিসটা ঠিক করেনি। বিষয়টি তাৎক্ষণিক দেখার জন্য ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। তবুও আমি আসলে কিভাবে বিষয়টি সমাধান করা যায় তার ব্যবস্থা নিব।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, ভাইদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় কেঁওচিয়া ইউনিয়নের মাদারবাড়ি এলাকার মহিউদ্দিন নামে এক যুবক গত বৃহস্পতিবার রাতে থানায় একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
