ঈদ মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ইসলামে ঈদের দিন ও রাতে বিশেষ আমল রয়েছে। মুসলমানের সেগুলো জানা ও আমল করা প্রয়োজন।
কোরবানির দিন ঈদের নামাজ আদায়ের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান হচ্ছে কোরবানি করা। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ঈদের দিনে আমরা সর্বপ্রথম ঈদের নামাজ আদায় করব। এরপর ফিরে এসে কোরবানি করব। (সহীহ বুখারি: ৯৬৮)
হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাত অনুসরণ করে পবিত্র ঈদুল আযহা ও কোরবানি করা সব মুসলিমের কর্তব্য।
পবিত্র ঈদুল আজহার সুন্নাহ হলো-
সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা: অন্যদিনের তুলনায় ঈদের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া। (বায়হাকি : ৬১২৬)
গোসল করা ও পবিত্রতা অর্জন করা: ঈদের নামাজের জন্য গোসল করা ও মিসওয়াক করা সুন্নাত। হাদিস বর্ণিত আছে, ইবনু আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করিম সা: ঈদুল ফিতর ও আজহার দিন গোসল করতেন। (বুখারি: ১/১৩০)
সুন্দর ও উত্তম পোষাক পরিধান করা : মুসলমানদের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব তথা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন সুন্দর ও সাধ্যের ভেতর সবচেয়ে উত্তম পোষাক পরিধান করা সুন্নত। নবী করিম (সা) প্রতিটি ঈদে ডোরা-কাটা পোষাক পরিধান করতেন। (সুনানু বায়হাকি, হাদিস: ৬৩৬৩)
ঈদগাহে যাওয়ার আগে পানাহার থেকে বিরত থাকা : ঈদুল আজহার দিন পানাহার ছাড়া ঈদগাহে যাওয়া ও নামাজের পর নিজের কোরবানির গোশত দিয়ে প্রথম খাবার গ্রহণ করা সুন্নাত। নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না। আর কোরবানির দিন নামাজের পূর্বে খেতেন না। (তিরমিজি: ৫৪২ ও সহিহ ইবনে হিব্বান: ২৮১৪)
ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবির বলা : পবিত্র কুরআন কারিমে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা গণনা পূর্ণ কোরো এবং তোমাদের হেদায়াত দান করার দরুণ আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫) জিলহজের ৯ তারিখ ফজরের পর থেকে ১৩ তারিখ আসরের নামাজ পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতে হয়। (হিদায়া ও ফাতহুল বারি: ২/৫৮৯)
ঈদগাহে আসা-যাওয়ার রাস্তা পরিবর্তন করা : ঈদগাহে যাতায়াতের রাস্তা পরিবর্তন করা সুন্নাত। যাওয়ার সময় এক রাস্তা দিয়ে গমন করা এবং ফেরার সময় অন্য রাস্তা ব্যবহার করা সুন্নত। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবিজি (সা.) ঈদের দিন ঈদগাহে আসা-যাওয়ার রাস্তা পরিবর্তন করতেন। (বুখারি: ৯৮৬)
পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া : কোনো অপারগতা ও অক্ষমতা না থাকলে, পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত। আবদুল্লাহ ইবনু উমর রা: বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন করতেন এবং পায়ে হেঁটে ঈদগাহ থেকে ফিরতেন। (তিরমিজি: ১২৯৫)
ঈদগাহে শিশুদের নিয়ে যাওয়া : আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) দুই ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার সময় ফজল ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস, আব্বাস, আলি, জাফর, হাসান, হোসাইন, উসামা ইবনু জায়েদ, জায়েদ ইবনু হারিসা, আয়মান ইবনু উম্মু আয়মান (রা.) কে সঙ্গে নিয়ে উচ্চস্বরে তাকবির ও তাহলিল পাঠ করতে করতে বের হতেন।
তিনি কামারদের রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে উপস্থিত হতেন এবং ফেরার সময় মুচিদের রাস্তা দিয়ে ঘরে আসতেন। (সুনানে কুবরা বায়হাকি: ৬৩৪৯)
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা : ঈদের দিন একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নাহ। জুবাইর ইবনু নুফাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাৎ হলে বলতেন ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’। এর অর্থ হলো, আল্লাহ আমার ও আপনার যাবতীয় ভালো কাজ কবুল করুক। (ফাতহুল কাদির, ২ খণ্ড, ৫১৭)
ঈদের খুতবা শোনা : ঈদের নামাজের পর খুতবা প্রদান করা সুন্নাহ। আর উপস্থিত মুসল্লিদের ওপর তা শোনা ওয়াজিব। আবদুল্লাহ ইবনু সায়িব বর্ণনা করেছেন, নবিজি (সা.) এর সঙ্গে আমি ঈদগাহে উপস্থিত হয়েছি। তিনি আমাদের নামাজ পড়িয়েছেন। অতঃপর তিনি বললেন: ‘আমরা নামাজ শেষ করেছি। যার ইচ্ছা সে খুতবা শোনার জন্যে বসবে। আর যে চলে যেতে চায়, সে চলে যাবে।’ (সুনানু ইবনু মাজাহ: ১০৭৩)
জুমার নামাজের মতো ঈদের নামাজেও দুই খুতবা রয়েছে। আর দুই খুতবার মধ্যখানে বসা সুন্নাত। আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুন্নাত হচ্ছে ইমাম ঈদে দুটি খুতবা দেবেন। দুই খুতবার মধ্যখানে বসে একটিকে অন্যটি থেকে আলাদা করবেন। (সুনানে কুবরা বায়হাকি: ৬২১৩)
ঈদগাহ থেকে ফিরে নফল নামাজ আদায় করা : ঈদের নামাজের আগে-পরে ঈদের নামাজের স্থানে নফল নামাজ আদায় করা মাকরুহ। ঈদের নামাজের পরে ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফিরে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া সুন্নত। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা) ঈদের নামাজের আগে কোনো নামাজ পড়তেন না। তবে নামাজের পর ঘরে ফিরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১২৯৩)
