সাতকানিয়ায় আইসক্রিমের লোভ দেখিয়ে সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. শহিদুল ইসলাম (৩১) নামে এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
গত সোমবার (২২ মে) সন্ধ্যার দিকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া পাড়া এলাকা থেকে থানার ওসি মো. ইয়াসির আরাফাতের তত্ত্বাবধানে সাঁড়াশি অভিযানে পুলিশের বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর মধ্য রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার শহিদুল সাতকানিয়া পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ড ভোয়ালিয়া পাড়া এলাকার মৃত নুরুল আমিনের ছেলে।
ধর্ষিতা শিশুটিও একই এলাকার বাসিন্দা এবং ভোয়ালিয়াপাড়া এলাকার নূরানী মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা প্রবাসী। বর্তমানে শিশুটি চমেক হাসপাতালের ওসিসি’তে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় চাচার মেয়ের সাথে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ভোয়ালিয়াপাড়া এলাকার একটি দোকানে কেক কিনতে যায় ধর্ষিতা শিশু। কেক কিনে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষক শহিদুল বড় চাচার মেয়েকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে শিশুটিকে আইসক্রিমের লোভ দেখিয়ে তার (শহিদুল) ছাগলের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
ধর্ষিতা শিশুটির মা বলেন, মেয়ে ঘরে ঢুকে ব্যাথায় কান্নাকাটি করছে এবং বলছে, তার প্যান্ট খুলতে। প্যান্ট খুললে দেখা যায় কাপড়ে রক্তের দাগ ও গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পরে এলাকার কিছু লোকের সহায়তায় মেয়েকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে চিকিৎসকরা চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
শিশুটির মা আরও বলেন, এর আগেও শহিদুল আমার মেয়েকে খারাপ করতে চেয়েছিল, কিন্তু সফল হয়নি। বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয় এবং বার বার সে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যায়।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশু ধর্ষণের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে সাতকানিয়া থানার ওসি মো. ইয়াসির আরাফাতের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একাধিক টিম সাতকানিয়া-লোহাগাড়া উপজেলা এলাকা, ধর্ষকের আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি চালায় পুলিশ। পরে ধর্ষককে আটক করতে তার ভাইসহ পাঁচজন নিকট ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষক ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। বর্তমানে শিশুটি চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) এ চিকিৎসাধীন রয়েছে। ধর্ষক শহিদুলকে গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর দিন সকালে শিশুটির মা শহিদুলকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দিলে থানা পুলিশের একাধিক টিম সাতকানিয়া-লোহাগাড়া উপজেলা ও তার আত্মীয়ের বাড়িসহ সম্ভাব্য স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া পাড়া থেকে ধর্ষক কে তার আত্মীয়ের মাধ্যমে বিকাশে টাকা দেওয়ার কথা বলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা পুলিশ টিম গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। অভিযোগটিকে মামলায় রুপান্তর করা হয়েছে।
