পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম শরীফ স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েকজন সদস্যের হাতে লাঞ্চনার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও তার অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার সকালে নিজ কক্ষে তালা দেখে কক্ষের বাইরে অবস্থান নেন তিনি। এছাড়াও কমিটির কয়েকজনের হাতে তিনি লাঞ্চিত হন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন।
এদিকে স্কুল শিক্ষককে লাঞ্চনা করে অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার খবর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল নেটিজেনদের মাঝে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষককে এইভাবে লাঞ্চিত করে তার কক্ষে তালা লাগানো যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা করেন অনেকেই। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম শরীফ স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম শরীফ বলেন, রবিবার (৭ মে) ৯.৩০ মিনিট স্কুলে এসে দেখেন তার অফিসকক্ষে নতুন তালা। নতুন তালার বিষয়ে অফিস সহকারীর কাছে জানতে চাইলে বলেন , আমরা জানি না। তিনি খবর নিয়ে জানতে পারেন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্যামল দত্ত, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুলু মেম্বার ও কমিটির কয়েকজন সদস্যরা নতুন তালা মেরেছেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে আমাকে কটুক্তি করে কথা বলে তারা এবং লাঞ্চনা করা হয়। তিনি বলেন, আমার কোন দোষ ত্রুটি থাকলে তা আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার ছিল। এইভাবে আমাকে লাঞ্চিত করা খুবই অমানবিক।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাকে স্কুল থেকে পরিকল্পিতভাবে তাড়ানোর জন্য চককষছেন স্কুল কমিটি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্যামল দত্ত সহ কমিটির সুবিধভোগী সদস্যরা। কারণ তাদের একটাই দাবী শ্যামল দত্তকে প্রধান শিক্ষক করতে হবে। আমাকে নাকি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তা আমি নিজেও জানি না, কখন কি জন্য কি কারণে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিছুদিন ধরে স্কুলের সভাপতি প্রবাসী হামিদ আলী বিভিন্ন ঝামেলা করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে আমাকে নোটিশ দিয়েছেন। আমি সে নোটিশের যথাযথ জবাবও দিয়েছি। আমি যে টাকা খরচ করেছি তা ভাউচার সহকারে উপস্থাপন করেছি। আমি টাকা খরচ করার কারণ স্কুলের চেক বই বিদেশে নিয়ে যায় স্কুলের সভাপতি হামিদ আলী। শিক্ষক কর্মচারীদের দুই তিন মাস বাবদ বেতন বকেয়া রাখেন তারা। তাই আমি বাধ্য হয়ে তাদেরকে বেতন সহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ব্যয় করি ভাউচারমূলে। আমি এই বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, নির্বাহী কর্মকর্তা সহ স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি এবং থানায় একটি লিখিত জিডি করেছি।
এই বিষয়ে স্কুলের সহকারী শিক্ষক শ্যামল দত্ত বলেন, স্কুল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম শরীফ স্যার বরখাস্ত হয়েছে। আমি নিয়ম মাফিক প্রধান শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করতেছি। আমার বিষয়ে আনা সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এদিকে হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমাজে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
এই বিষয়ে পটিয়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমা কান্ত মজুমদার বলেন, প্রধান শিক্ষকের রুমে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অসৌজন্যমূলক। এটা করা ঠিক হয়নি। আমাকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। তবে পরিচালনা কমিটি যখন প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন তিনি কয়েকদিন স্কুলে না গিয়ে উচ্চ পযার্য়ে আপিল করতে পারতেন তাহলে আর রুমে তালা ঝুলানোর বিষয়টি আসতো না।
