আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা। বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করবে।
দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করবে। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মৈত্রীময় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য এক সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন। আট শতাধিক আমন্ত্রিত অতিথিসহ প্রায় ১৬ শতাধিক লোক অনুষ্ঠানে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারা দেশে সাড়ম্বরে এই উৎসব উদযাপনে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন ও বাসাবো সবুজবাগ বৌদ্ধ বিহার দিবসটি উৎসবমুখর ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপনের জন্য দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বুদ্ধপূজা, মহাসংঘদান এবং আলোচনাসভা। বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদ প্রতীকী শান্তি শোভাযাত্রা ও সম্প্রীতি উৎসবের আয়োজন করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা বৌদ্ধ সমপ্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারাও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ নেপালের লুম্বিনী কাননে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ওই রাতেই তিনি ভারতের বিহার রাজ্যের বুদ্ধগয়ায় বোধিজ্ঞান লাভ করেন। এ ছাড়া গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুও হয়েছিল একই রাতে। তাই এই তিথিকে বলা হয় ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধপূর্ণিমা। গৌতম বুদ্ধের জন্ম, মহাপ্রয়াণ ও বোধিলাভ বৈশাখী পূর্ণিমার দিন হয়েছিল বলে এর অপর নাম বৈশাখী পূর্ণিমা।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এই দিবসটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকে। এই দিনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা স্নান করে শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকে। তারা প্রতিটি মন্দিরে বহু প্রদীপ প্রজ্বলিত করে, ফুলের মালা দিয়ে মন্দিরগৃহ সুশেভিত করে বুদ্ধের আরাধনায় নিমগ্ন হয়। এ ছাড়া বুদ্ধরা এই দিনে বুদ্ধপূজার পাশাপাশি পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেদ প্রার্থনাও করে থাকে।
