১১৪ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলা আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। নবনির্মিত নগরীর লালদিঘি ময়দানে এই খেলা শুরু হবে। আর এ উপলক্ষে লালদিঘি মাঠে মেলা চলছে গতকাল থেকে।
এর আগে গত বুধবার লালদিঘির পাবলিক লাইব্রেরিতে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে বলী খেলার মাঠ পরিদর্শন এবং ট্রফি, জার্সি ও থিম সং উন্মোচন করেন সিটি মেয়র। এবারের ১১৪তম আসরের তিন দিনব্যাপী মেলা বসবে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। আর বলী খেলা লালদিঘি ময়দানে ফেরানোর পাশাপাশি একদিনের জন্য বিশেষ ‘চাঁটগাঁইয়া উৎসব’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় আমি বদ্ধপরিকর। লালদিঘির সড়কে তিনদিন বৈশাখী মেলা হবে। ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের অংশ চট্টলাবাসীর গর্বের জব্বারের বলী খেলার আয়োজনে কোনো কিছু কমতি থাকবে না। বলী খেলা লালদিঘির মাঠেই হবে। তবে মাঠের ছয় দফা মঞ্চ উন্মুক্ত থাকবে। বাঁশ ও বালি দিয়ে মাঠে বলী খেলার মঞ্চ (রিং) তৈরি হচ্ছে। ২৬ এপ্রিল হবে চাঁটগাঁইয়া ঈদ উৎসব। মেলা হবে মাঠের বাইরে।’
এদিকে ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল, ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব এবং সংগীত শিল্পী আলাউদ্দিন তাহের।
এর আগে ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে জব্বারের বলী খেলা ও মেলার আয়োজন হয়নি। লালদীঘির মাঠের উন্নয়নের জন্য ২০২২ সালে বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয় মূল মাঠের বাইরে। সর্বশেষ তিন বছর পর লালদীঘির মাঠে ফিরছে ঐতিহাসিক জব্বারের বলি খেলা।
উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুবক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে এই বলী খেলার সূচনা করেন। তার মৃত্যুর পর এ প্রতিযোগিতা জব্বারের বলী খেলা নামে পরিচিতি লাভ করে। এ খেলায় অংশগ্রহণকারীদের বলা হয় ‘বলী’। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ‘কুস্তি’ বলী খেলা নামে পরিচিত।
