চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দায়িত্বরত এক নার্সকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে আন্দোলনকারী স্টাফ নার্সদের সাথে হাসপাতালের পরিচালকের রুদ্ধশ্বাস বৈঠকে আশ্বাসের পর কর্মবিরতি ছেড়ে রাত সাড়ে ১০টায় ডিউটিতে ফিরেছেন আন্দোলনকারী স্টার্ফ নার্সরা।
তবে এ সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল জরুরি বিভাগসহ বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের ওয়ার্ড ২৬, ৩১ ও ৩৬ নম্বরের নার্সরা কাজে ছিলেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টায় পঞ্চম ব্যাচের এক ইন্টার্ন চিকিৎসক হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে একজন রোগী নিয়ে আসেন।
নিয়ম অনুযায়ী নতুন রোগী ওয়ার্ডে ভর্তির সময় ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসক নিয়ে আসা রোগীর ক্ষেত্রেও দায়িত্বরত নার্স ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ যাবতীয় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করছিলেন। তবে ফোন নম্বরটি বুঝতে না পারার কারণে তিনি দ্বিতীয়বার ফোন নম্বরটি জিজ্ঞেস করেন।
এসময় ইন্টার্ন চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে নার্সকে বলেন, আপনি কি বয়রা নাকি; শুনেন না? তখন নার্স এমন আচরণ করার বিষয়টি জানতে চাইলে চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। মারধরের শিকার ওই নার্স দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছেন আন্দোলকারীরা। তিনি বর্তমানে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।
দায়িত্বরত অবস্থায় এক নার্সকে মারধরের ঘটনাটিকে ‘অপ্রীতিকর’ দাবি করে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহমেদ।
তিনি বলেন, একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। গত তিন দিন ধরে নার্সরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে; সে জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির মাধ্যমে ভবিষ্যতের কর্মপন্থা ঠিক করা হবে। সত্যিকার অর্থে কোনো ছাত্র কিংবা ইন্টার্ন চিকিৎসক জড়িত থাকলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে নার্সকে মারধরের জেরে স্বাস্থ্যসেবীরা তিন ঘন্টার বেশি হাসপাতালের মেন গেট বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন করেন স্বাস্থ্যসেবীরা।
রাত নয়টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালক জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহমেদ। বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবীদের দাবি দাওয়া নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় নার্সরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন।
