বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ছোট নদী, ছড়া ও ঝিরি থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরই ইউনিয়নের ১, ৩, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় এ অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিল্লাছড়া, হাবিবুর রহমানপাড়া, আমতলী, আমতলী বাজার, হরিখাল, পতেঙ্গাবিল, সরই ইউনিয়ন পরিষদের পাশের সরই খাল, পাঞ্জাখানা রোড, আমিরের মুরগির খামার সড়ক, বাইঘ্যার দোকান, বাঘডেপা, জুড়মনি পাড়া, হোসেন মেম্বার পাড়া ও হাচানাভিটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় বালুর ডিপো ও উত্তোলন পয়েন্ট দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন স্থানে সেলু মেশিন বসিয়ে ছোট নদী, ছড়া ও ঝিরি থেকে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে এসব বালু বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র পাচার করা হয়। এতে নদী ও ঝিরির স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তনের পাশাপাশি তীরবর্তী এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের অর্থায়নে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতির মুখে পড়ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দ্রুত এসব কার্যক্রম বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় পরিবেশবাদী ও মানবাধিকারকর্মী রুহুল আমিনসহ সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা কি প্রশাসনের আইনগত পদক্ষেপের বাইরে থেকে যাচ্ছে?
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক বা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এদিকে সরই ইউনিয়নকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ক্ষতি থেকে রক্ষায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত নদী, ছড়া, ঝিরি ও সড়কগুলো পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
