বান্দরবানের আলীকদম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর মিয়ানমারের ১৪ নাগরিককে হেফাজতে নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক ব্যক্তিরা সবাই মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে বিজিবি। তারা নিরস্ত্র ও বেসামরিক পোশাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলীকদম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) বুধবার (১৯ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিভিন্ন বয়সী মিয়ানমারের ১৪ জন পুরুষ নাগরিক আলীকদম ব্যাটালিয়নের অধীন ক্রিলাইপাড়া চেকপোস্টে এসে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের হেফাজতে নেন।
পরে তাদের ক্রিলাইপাড়া চেকপোস্ট থেকে আলীকদম ব্যাটালিয়ন সদরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক ১৪ জনই মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাদের কারও কাছে অস্ত্র ছিল না। সবাই বেসামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবৈধ অনুপ্রবেশ আইন, ফরেনার্স অ্যাক্ট, সরকারি নির্দেশনা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে ওই ১৪ মিয়ানমার নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৯ আগস্ট) তাদের আলীকদম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম ও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দুর্গম ও পাহাড়ি হওয়ায় সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবির একাধিক চেকপোস্ট ও টহল ব্যবস্থা রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও টহল পরিচালনা করে আসছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।
আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি ও দায়িত্বশীল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
