কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে জুতা হারানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলায় গুরুতর আহত পশু চিকিৎসক মেহেদী হাসান সাকিব (২৭) মারা গেছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ১টার দিকে চট্টগ্রামের এশিয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মেহেদী হাসান সাকিব মাতামুহুরি উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতডালিয়া পাড়ার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট লবণ মাঠে কাজ করার সময় এক শ্রমিকের জুতা হারানোকে কেন্দ্র করে সাকিবের ভাইয়ের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় তাঁর ভাইয়ের ওপর প্রথম দফায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরে তিনি নিজ এলাকা সাতডালিয়ায় ফিরে এলে সেখানেও তাঁকে হামলার শিকার হতে হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তবে সালিশ বৈঠকে অভিযুক্তরা উপস্থিত হননি বলে স্থানীয়দের দাবি।
এর একদিন পর, ১৫ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে কাইফু ও ইমনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র, দা, কিরিচ ও লোহার রড নিয়ে সাকিবের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি সাকিবকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলায় আরফাত (২১) ও মোশাররফ (২৪) নামের আরও দুজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সাকিবকে পরে চট্টগ্রামের এশিয়ান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলায় কাইফু, ইমন, রোকন, জিবন, জিহান, বেলাল উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের আত্মীয় হওয়ায় ইমনের বিরুদ্ধে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পেতেন না। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাকিবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা দেখা দেয়। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম নিউজ / এসডি/
