চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এবার এ বোর্ডে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৯৮ জন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ১৩ শতাংশের বেশি। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।
ফলাফলে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্ররা কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিপরীতে ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ।
গত বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই অবনতি হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরের শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও এবার বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মহানগরে পাসের হার ৭৪ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ।
মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চট্টগ্রামের বাইরের চার জেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। কক্সবাজারে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং খাগড়াছড়িতে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
গত বছর এসব জেলায় পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৭০ দশমিক ৭৬, ৫৬ দশমিক ৫৫, ৬৩ দশমিক ১২ ও ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও পার্থক্য স্পষ্ট। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি—৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করেছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলও এবার হতাশাজনক। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার ২১টি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩৩টি।
অন্যদিকে, এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হলো।
আর /চট্টগ্রাম নিউজ
