তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র দেশের ইতিহাস ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ এটি জলাবদ্ধতা হলে পানিতে ডুবে যায়। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এই বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার ৮ আগস্ট নগরের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান কিংবা আদালতের দৃষ্টিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করা উচিত কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
এসময় তিনি বলেন, একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান কী বক্তব্য দিতে পারেন কী না? বা আপনারাও কী একজন সাসপেক্টেড এবং একজন ক্রিমিনাল, তার বক্তব্য প্রচার করার জন্য আপনাদেরও কী মনে চায় কী না? সেটাও তো আমাদের প্রশ্ন থাকতেও পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভেরি ক্লিয়ারলি বক্তব্য দিয়েছে। আমি ওই অবস্থানেই থাকতে চাই। এবং সেটা ছাড়াও যে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পরিচালক শাহীন আক্তার, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) বাপ্পী চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিউ মিডিয়ার মাধ্যমে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। এসব মাধ্যমে শিক্ষণীয় ও সচেতনতামূলক রিলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউ মিডিয়া প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনটি সঠিক তথ্য, কোনটি মিসইনফরমেশন এবং কোনটি ডিজইনফরমেশন তা শনাক্ত করার জন্য বিভিন্ন টুলস ও সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে জনগণকে সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
এসময় বিটিভির অনুষ্ঠানের মান বাড়াতে ‘ফরেনসিক অডিট’ শুরু হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বলেন, অডিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিটিভির ডিজিটালাইজেশন, অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রচারের মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী ১০ দিনের মধ্যে অডিট কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
তিনি বলেন, বিটিভির জনপ্রিয় সিগনেচার অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়িকে আরো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ির আবেদন গ্রহণের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের অনুষ্ঠান আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা গেলে দর্শক-শ্রোতাদের বিটিভির প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে এটুকু বলতে পারি, সাংবাদিকরা যখনই বিভিন্ন সময় আবেদন করেন আমরা ইফেকটিভলি যাতে সহযোগিতা করতে পারি সেদিকে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। যে বাজেট ট্রাস্টের জন্য দেওয়া হয়েছে, সেটা আরেকটু বাড়ানো যায় কী না সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক তথ্য অফিস অফিসে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভা
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী শনিবার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে যেখানে সমন্বয় ও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে, সেখানে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনগণকে সচেতন ও অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। শুধু সংবাদ প্রচার বা তথ্য সরবরাহ নয়, দুর্যোগের সময় জনগণকে সচেতন করা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়াও তথ্য বিভাগের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধনে তথ্য অধিদপ্তর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কাছে সরকারের বিভিন্ন কর্মকা-, উন্নয়ন ও সেবার তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জনগণকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিআইডির কাজের পরিধি প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বিস্তৃত। তবে জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাজের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে বিদ্যমান জনবল ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন পিআইডির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, জনগণকে আরো মানসম্মত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চলমান কার্যক্রমগুলোকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতে হবে। সম্পদের সুষ্ঠ ব্যাবহার ও সর্বোচ্চ সেবা এবং তথ্য প্রাপ্তি জনগনের দৌড়ঘোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ বিভিন্ন জেলা ও আঞ্চলিক অফিস পরিদর্শন করা একটি চলমান কার্যক্রম। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও অন্যন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।
এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম, দায়িত্ব ও কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্র্দেশনা দেওয়া হচ্ছে ।
সভায় আঞ্চলিক তথ্য অফিস চট্টগ্রামের উপ প্রধান তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী চট্টগ্রাম পিআইডির কার্যক্রম সম্পর্কে একটা তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
