দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ, সহজ ও নিয়মিত যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনা জোন ও ১৭ ইসিবি-এর যৌথ উদ্যোগে আজ একটি চাঁদের গাড়ি এবং একটি নৌকা সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ সংকটে থাকা পোয়ামহুরী, পাহাড়ভাঙ্গা ও সিন্দুমুখ এলাকার হাজারো মানুষের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াতের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ নির্ভরযোগ্য যানবাহন ও নৌকা সেবার অভাবে নানাবিধ দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোত এবং দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ত। অনেক সময় জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিলম্ব হতো এবং কৃষকদের অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হতো। নতুন এই সেবা দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান হিসেবে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আল হাসান, পিএসসি, অধিনায়ক ১৭ ইসিবি। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মনজুরুল আলম, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকৃত চাঁদের গাড়িটি প্রতিদিন আলীকদম–পোয়ামহুরী–আলীকদম রুটে দুইবার নিয়মিত চলাচল করবে। পাশাপাশি নৌকাটি পোয়ামহুরী–পাহাড়ভাঙ্গা–সিন্দুমুখ নৌপথে নিয়মিত সেবা প্রদান করবে। এর ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজতর হওয়ার পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, শিক্ষায় অংশগ্রহণ, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সেবাদ্বয় স্থানীয় জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবিকা এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আলীকদম সেনা জোন ও ১৭ ইসিবি-এর অব্যাহত অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্যাঞ্চলসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম নিউজ / এসডি/
