চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মসজিদের ভেতর থেকে মোহাম্মদ আমির হোসেন (৪০) নামে এক ইমামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত পৌনে ১১টায় উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার রাজা মিয়া সওদাগর জামে মসজিদ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইমাম মোহাম্মদ আমির হোসেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাসিন্দা। গত ১৩ বছর ধরে তিনি সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার রাজা মিয়া সওদাগর জামে মসজিদে ইমামতি করছিলেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার ঘোড়ামারা এলাকার, রাজা মিয়া সওদাগর জামে মসজিদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে নামাজ পড়ার সময় মুসল্লিরা ইমামকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করার এক পর্যায়ে ওই মসজিদের দ্বিতীয় তলায় তাকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। এতে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশের কাছাকাছি একটি ডায়েরিতে একটি চিরকুট পান।
চিরকুটে লেখা ছিল, ‘কলিজা এতদিন এত কথা বলছ হঠাৎ কথা বন্ধ করবা, আমি জানি তুমি আবার আনাসের সাথে কথা বলার জন্য আমার সাথে কথা বন্ধ করেছ। আমার সময় শেষ কলিজা। আমি মরলে তো তোমার কোনো সমস্যা নাই। সেজন্য মরে যায় কলিজা। তোমার কলিজা চলে যাচ্ছে আল্লাহ হাফেজ কলিজা।’
এছাড়াও মৃত্যুর আগে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘যার জীবনে দুঃখ ছাড়া কিছু নাই তাকে দেখায় কষ্টের ভয়।’
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মোতয়াল্লি মোহাম্মদ ইফতেকার আহমেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার আসরের সময় মুসল্লিদের নিয়ে তিনি নামাজ পড়েন মসজিদে। কিন্তু মাগরিব ও এশার নামাজের সময় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। আমরা মনে করেছিলাম কোথাও কাজে গেছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে খুঁজতে খুঁজতে দ্বিতীয় তলায় জানালা দিয়ে দেখেন তার নিথর দেহ ফ্যানের সিলিংয়ের সাথে ঝুলছে। নিচে পড়ে আছে একটি মই।’
বিষয়টি জানার পর সাথে সাথে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে আসেন এবং তার কক্ষে গিয়ে দেখা যায় একটি নোট খাতায় ৭/৮ পাতার চিরকুট পান।
এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর মসজিদে ইমামতি দায়িত্ব পালনের কারণে এলাকার প্রতিটি মানুষের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তিনি খুব নম্র ও ভদ্র স্বভাবের ছিল। তার আত্মহত্যার পিছনের মূল কারণ পুলিশের তদন্তে বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পারিবারিক কলহ থেকে ওই ইমাম আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
