চট্টগ্রামে আলোচিত ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত ২৯০ ভরি স্বর্ণের বার এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ মডেল থানার যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৪ জানুয়ারি ভোর ৫টার দিকে সবুজ দেবনাথ নামের এক যুবক তার সঙ্গে আরও দুজনকে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কোতোয়ালী থানার সাবএরিয়া এলাকা থেকে অক্সিজেনের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে মারধর করে ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর–০১, ধারা–৩৯৪, দণ্ডবিধি)।
মামলার তদন্তে গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০) এবং রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমন (২২)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেন, তার নেতৃত্বেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ছিনতাই সংঘটিত হয়। তিনি জানান, লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো প্রথমে তার স্ত্রী পান্না রানী দাস (৩৮)–এর হেফাজতে রাখা হয়। পরে সেগুলো তার চাচাতো ভাই রবি কুমার দাস (৪০)–এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে অন্যান্য গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, রবি কুমার দাস স্বর্ণগুলো তার বোন সাক্ষী প্রতিমা দাশের কাছে সরল বিশ্বাসে রেখে যান।
এই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের গায়ে লেখা ছিল— ‘sam 10 TOLAS GOLD 999.0’।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় মামলার গোপন তথ্যদাতা বিবেক বনিক (৪২)–কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন আনুমানিক ২৯০ ভরি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আর এইচ/
