সেবাগ্রহীতাদের সাথে আচরণে মানবিকতা, আন্তরিকতা ও ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শনের তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আগত সেবাপ্রত্যাশীরা যেন ভালো আচরণ ও প্রয়োজনীয় সেবা পান—তা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের আরও মনোযোগী, মানবিক ও সেবামুখী হতে হবে।”
শনিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অর্ধ-বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ শরীফ উদ্দীন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “ছোট ছোট বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তি না হলে জনগণকে বারবার বিভিন্ন অফিস–আদালতে ঘুরতে হয়। এ কষ্ট লাঘব করতে স্থানীয় পর্যায়ে বিচারিক সেবা আরও কার্যকর করতে হবে।”
তিনি সেবা প্রদানে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসা’র সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক ফরিদুল আলম।
সভাপতির বক্তব্যে উপপরিচালক মোঃ শরীফ উদ্দীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ পর্যায়ে সরকারের সেবাদান প্রক্রিয়ার মূল প্রতিষ্ঠান। জনগণ যাতে পরিষদের মাধ্যমে সহজে সরকারি সেবা পায়—এ জন্য সেবার পরিবেশ আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের প্রদত্ত আইনগত ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভায় জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ২০২৫ সময়কালের চট্টগ্রামের ১৯১টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন তুলে ধরেন প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা। পরে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফখরুল ইসলাম, ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল আবছার এবং লেলাং ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খায়রুল আসলাম।
সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ১৯১ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আর এইচ /
