চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “একটি শ্রেণি আওয়ামী লীগ স্টাইলে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী স্টাইলের নির্বাচন জনগণ আর মেনে নেবে না। জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার শেষে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।”
শুক্রবার বাদ আসর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে নিউমার্কেট মোড় পর্যন্ত গণমিছিল প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

জামায়াতের ৫ দফা দাবি
১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন।২. সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু।৩. সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত।৪. সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির দৃশ্যমান বিচার।৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ফ্যাসিবাদীদের বিচার করবে, পাচারকৃত টাকা ফেরত আনবে ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। কিন্তু বাস্তবে সরকারে ভেতরে থেকেও অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে। জনগণ তাদের প্রতিরোধ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে। তাই জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রাজপথের লড়াই চলবে।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “জামায়াত নির্বাচনে যেতে চায় না—এমন অভিযোগ মিথ্যা। আমরা তিনশ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে কাজ শুরু করেছি।”
সভাপতির বক্তব্যে নগরীর ভারপ্রাপ্ত আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “পিআর সিস্টেমে নির্বাচন জরুরি। এতে ছোট-বড় সব দলের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হবে।”
সঞ্চালক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না হলে সংস্কারের কোনো ভিত্তি নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণ রাজপথ ছাড়বে না।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, শামসুজ্জামান হেলালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এস এম লুৎফর রহমানসহ জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
আর এইচ/
