ঘনিয়ে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ দুর্গোৎসব কে ঘিরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে পূজার প্রস্তুতি।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আমুচিয়া, জৈষ্টপুরা, সারোয়াতলি, শাকপুরা, পোপাদিয়া ইউনিয়ন ও পৌরসভার বেশ কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কেউ কেউ খড়, কাঠ, সুতা দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করছেন কেউবা নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষী, সরস্বতী প্রতিমা। এরপর প্রতিমা রোদে শুকানো হচ্ছে। কেউ কাঠ কাটছেন, কেউ খড় দিয়ে হাত-পা তৈরি করছেন, আবার কেউ রং করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। একটি প্রতিমা সেট তৈরিতে ১০-১৫ দিন সময় লাগে। এতে দুর্গার পাশাপাশি থাকে অসুর, সিংহ, মহিষ, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক ও লক্ষ্মীর প্রতিমা।জোরেশোরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।
উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা বীণাপাণি সংঘে এবার যোগাদ্যা রূপে পূজিত হবেন দেবী দূর্গা। তাই এবারের আয়োজন ‘স্বংয়বর’।
এ মণ্ডপের আয়োজকরা জানান, ‘পৌরাণিক মহীরাবণের আরাধ্যা ভদ্রকালীই দেবী যোগাদ্যা রূপে পূজিত হন পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামের সতীপীঠে।’ এছাড়া প্রাচীন সমাজে উচ্চবংশীয় রাজকন্যার বিবাহকে ঘিরে যে প্রথা প্রচলিত ছিলো তাকে বলা হতো
‘স্বংয়বর’। প্রতিবছরের ন্যায় এবারের আয়োজনেও দূর দূরান্ত থেকে লোকসমাগম ঘটবে বলে আশাবাদী এ মণ্ডপ কমিটির।
একই এলাকার জ্যৈষ্ঠপুরা মৈত্রী সংঘ ও দেবেন পাঠাগারের পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। চলছে রঙের কাজ। রং তুলিতে আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পী মঙ্গল পাল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ মণ্ডপের জন্য প্রতিমা তৈরি করেন।
মঙ্গল পাল বলেন,আয়োজকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা তৈরি করছি। এছাড়া আরও দুইটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির অর্ডার নিয়েছি। তবে স্থানীয় কারিগর সংকট ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিমার দাম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
আয়োজক কমিটির সদস্য শিবাশীষ সেন শঙ্কু জানান, মৈত্রী সংঘ ও দেবেন পাঠাগারের উদ্যােগে এবারের আয়োজন হচ্ছে “মন্দিরের ছায়ায় মা ভুবনেশ্বরীর নবরূপ “। এছাড়া দুর্গোৎসবে ভক্তিমূলক গান, নৃত্যসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তৎপরতা রয়েছে প্রশাসনের। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়, পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে একের পর এক সভা করছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
বোয়ালখালীতে ১৬৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সার্বজনীন ৯৭টি ও ব্যক্তিগত মণ্ডপ রয়েছে ৭০টি। উপজেলার প্রায় মণ্ডপের প্রতিমা পুরোপুরি প্রস্তুতও হয়ে গেছে। মণ্ডপ তৈরি, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজও চলছে পুরোদমে।
হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার উদ্ভবস্থল বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা সন্ন্যাসী পাহাড় চূড়ায় মেধস মুনির আশ্রমে মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটবে। এইদিন দেবী দুর্গাকে পূজা অর্চনা বাদ্য বাজিয়ে মর্ত্যে আহবান জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে ৫দিনব্যাপী দূর্গাপূজার।
এ বছর শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে। পূজা উপলক্ষে তিনস্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এখন মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলমান। পূজা চলাকালীন সকল মণ্ডপে পুলিশের কঠোর নজরদারি রাখা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপিত হবে বলে আশা করছি।
আর এইচ/
