চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুনতিতে চান্দা খালের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ইসহাক মিয়া সড়ক।।শুধু তাই নয়,সড়কের পাশে গাইডওয়ালগুলো হেলে পড়েছে।এ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন সড়ক দিয়ে চলাচলকারিরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক ভাঙনের ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, এবং বসতবাড়ি ও জমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া না হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় ও রয়েছেন তারা।
বৃষ্টিতে ধসের কারণে শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই বাড়েনি, এখানকার উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহণ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন কলেজ,উচ্চ বিদ্যালয়, চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসা,আধুনগর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের ছাত্র-ছাত্রী সহ পার্শ্ববর্তী কয়েক গ্রামের শত শত লোক যাতায়াত করেন।
দীর্ঘ ১১ কিলোমিটার এ গ্রামীন সড়কটি উপজেলার চুনতি ও পুটিবিলা ইউনিয়নের পাশাপাশি বান্দরবান জেলার লামা ও আলীকদম উপজেলার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।
ইসহাক মিয়া সড়কটি গ্রামীণ পরিবহণ উন্নয়ন প্রকল্প–২ এর আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র অধীনে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যায়ে ২০১৫ সালে এ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৮ সালে সম্পন্ন হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,চট্রগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি শাহ সাহেব গেইট থেকে পূবর্দিকে ১১কিলোমিটার সড়কের চুনতি জাদী পাহাড় বৌদ্ধ বিহারের গেট সংলগ্ন এলাকায় এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।সড়কের পাশে গাইড ওয়ালটি ও ধসে পড়েছে। সড়কে অসংখ্য স্হানে ছোট–বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে সড়কের ওই অংশ পুরোটাই বিলীন হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। যার ফলে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শুধু তাই নয় কৃষিনির্ভর এসব এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে চরম দূর্ভোগে পড়বেন কৃষকরা।এ সড়ক বিলীন হলে বিকল্প পথে এসব কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অন্তত আরো ৬কিলোমিটার দুরের রাস্তা দিয়ে বাজারে নিয়ে যেতে হবে।সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে এলাকার কৃষি অর্থনীতি ধসে পড়বে। তাই সড়কের অবকাঠামো রক্ষায় দ্রুত টেকসই গাইডওয়াল নির্মাণ সহ জরুরিভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সড়কটির দ্রূত সংস্কার চেয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুনতি ইউনিয়ন শাখার আমির মাওলানা সলিম উল্লাহ লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন ও করেছেন।
চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমরা গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে চুনতি বাজার যাওয়ার সময় সড়কে বিশাল অংশ ভাঙনের কারণে আতঙ্কে থাকি। উপজেলার খাদ্যশস্য উৎপাদনের বড় একটি অংশ এসব এলাকার গ্রামগুলো থেকে আসে। ভাঙনের কারণে সেই পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে,বড় বড় গর্ত সহ ফাটল ধরেছে, যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।তাই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীন এ সড়কটির দ্রূত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ইফরাত বিন মুনীর জানান, ইসহাক মিয়া সড়ক ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি।সড়কের ভাঙন সংস্কারের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।আশা করছি দ্রূত কাজ শুরু হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ,সাইফুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে সড়কটির সংস্কার অতীব জরুরি।তাই এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এলজিইডি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আলী বলেন, বিষয়টি জেনেছি। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে ও জানান তিনি।
আর এইচ/
