মহেশখালীর কালারমার ছড়ায় আবারও রক্তাক্ত ঘটনা। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণের পর নির্মমভাবে খুন হয়েছেন চিংড়ি প্রকল্প মালিক তোফায়েল আহমদ সিদ্দিকী (৩৩)। একই রাতে দুটি চিংড়ি ঘেরে ডাকাতি চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার চিংড়ি লুট করে সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৩ আগস্ট দিবাগত রাতে মোহাম্মদ শাহ ঘোনা সংলগ্ন পশ্চিমে ‘আট জইন্যা ঘোনা’ ও ‘পনের জইন্যা ঘোনা’ নামক এলাকায় চিংড়ি প্রকল্পে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তারা প্রথমে তোফায়েলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে কালারমার ছড়ার প্রধান সড়কের নোনাছড়ি কাউল্যার ব্রিজের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহতের পরিবার এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করছে।
তোফায়েল আহমদ সিদ্দিকী ছিলেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত চিংড়ি ব্যবসায়ী এবং মরহুম সিদ্দিক আহমদ মাতব্বরের পুত্র। এলাকায় একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি।
সন্ত্রাসীরা একই রাতে তোফায়েলের মালিকানাধীন এবং পাশের আরও একটি চিংড়ি ঘেরে ডাকাতি চালায়। প্রায় পাঁচ লাখ টাকার চিংড়ি মাছ লুটে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন প্রকল্পের অন্যান্য অংশীদাররা। স্থানীয়রা জানান, সশস্ত্র অবস্থায় এসে তারা পাহারাদারদের হুমকি দিয়ে ঘের খালি করে ফেলে।
একই এলাকায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী এ ধরনের তৎপরতা চালিয়ে এলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতেই বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর ফলে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে খুন ও ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটাতে পেরেছে।
এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। তারা বলেন, “প্রশাসন যদি সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে হয়তো তোফায়েলকে বাঁচানো যেত।
মহেশখালীর কালারমার ছড়ায় একের পর এক অপহরণ, খুন ও লুটপাটের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা চরমে পৌঁছেছে। প্রশাসনের প্রতি দাবি উঠেছে—চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শান্তি ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার।
মহেশখালীর ওসি মঞ্জুল হক জানান, তোফায়েলের মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে যারা এই হত্যা কান্ডে জড়িত তাদের গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
