কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের জে.এম.ঘাট এলাকার একমাত্র প্রধান সড়কটি দীর্ঘ ১৭ বছরেও সংস্কারের মুখ দেখেনি। অথচ এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করে এলাকার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা পরিণত হয় কাদামাটি, জলাবদ্ধতা ও চলাচলের অনুপযোগী দুর্ভোগে।
স্থানীয় শিক্ষকরা জানিয়েছেন, স্কুলে পৌঁছাতে গিয়ে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বই, খাতা ও পোশাক ভিজে যায়। হাঁটু পর্যন্ত পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়ছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার হারও বাড়ছে।
সাকের মো:কাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহিরুল আলম বলেন,“প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যেতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীরা কাদায় পড়ে যায়, ভিজে যায়। মেয়েদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দীর্ঘ ১৭ বছরেও কেউ এই রাস্তাটির দিকে নজর দেয়নি।”
এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে,“বৃষ্টির দিন বই-খাতা নিয়ে কাদায় হাঁটতে হয়। অনেকে আসতেই চায় না। মাঝে মাঝে কান্নাও পায় আমাদের।”
অভিভাবকদেরও একই ক্ষোভ। এক মা বলেন,“আমার ছোট মেয়ে স্কুলে যেতে গিয়ে কাদায় পড়ে গিয়েছিল। রাস্তাটা দেখলে মন কাঁদে, অথচ এটা দিয়ে চারটা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্ররা হাঁটে প্রতিদিন।”
জে.এম.ঘাট এলাকায় অবস্থিত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো সাকের মো:কাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জলেয়ারমার মার ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, তৈয়াবিয়া হেফজখানা ও নূরানী মাদ্রাসা। এগুলো স্থানীয় শিক্ষার অন্যতম ভরসা হলেও যাতায়াতের দুর্ভোগে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বারবার অভিযোগ করেও কোনো সুফল মেলেনি। জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। স্থানীয় তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর আহ্বান—“আমরা বিলাসী রাস্তা চাই না। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চলাচলের উপযোগী রাস্তা চাই। বই নিয়ে যেন আর কেউ কাদায় না পড়ে।”
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েত উল্লাহ বলেন,“এই সড়কটি আমার নজরে এসেছে। এক মাসের মধ্যেই কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।”
আর এইচ/
