ইউক্রেন ইস্যুতে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকেও বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ বৈঠক। তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে উভয় নেতা আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ ও ‘ফলপ্রসূ’ বললেও যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।
আলাস্কার একটি সামরিক ঘাঁটিতে আয়োজিত এই আলোচনাকে ঘিরে ছিল আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনের ব্যাপক আগ্রহ। এটি ছিল ২০২২ সালের ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা ভূমিতে পুতিনের প্রথম সফর এবং কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কিছু অগ্রগতি করেছি, তবে এখনো চূড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছাইনি। চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি নয়।” ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বৈঠককে “১০–এ ১০” মূল্যায়ন করেন।
ট্রাম্প পুতিনকে লাল গালিচায় স্বাগত জানান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের লিমুজিন ‘দ্য বিস্ট’-এ উঠিয়ে নিজে তাঁকে কক্ষে পৌঁছে দেন। সেখানে ‘পারসুইয়িং পিস’ (শান্তির অন্বেষণ) শিরোনামে হয় মূল আলোচনা। তবে বৈঠক শেষে মাত্র ১২ মিনিটের একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দু’নেতা সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
পুতিন বলেন, “আমাদের বোঝাপড়া ইউক্রেনে শান্তির পথ তৈরি করতে পারে।” তিনি দ্বিতীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাবে হাসিমুখে বলেন, “পরেরবার মস্কোতে।”
বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি জেলেনস্কির পাশাপাশি ন্যাটো নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন। এদিকে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “রাশিয়াকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা আমেরিকার প্রতি আস্থা রাখছি।”
সাম্প্রতিক সময়ের যুদ্ধক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি পুতিনের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। যদিও আলাস্কায় যাওয়ার সময়ই ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা কয়েকটি গ্রাম পুনরুদ্ধার করেছে। পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও এই সফরে তিনি রুশ সাংবাদিকদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করেছেন।
একজন মার্কিন সাংবাদিক পুতিনকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কি সাধারণ মানুষ হত্যা বন্ধ করবেন?” পুতিন তার জবাবে কেবল হাসেন।
বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ২০১৮ সালে হেলসিঙ্কিতে সমালোচিত একক বৈঠকের পর এবার তিনি একা পুতিনের মুখোমুখি হননি।
সূত্র: ফক্স নিউজ
