কক্সবাজারের চকরিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে সানজিদা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে—শ্বশুরবাড়ির লোকজন পিটিয়ে তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) রাত ও রবিবার (১০ আগস্ট) সকালে চকরিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গারমুখের কোনারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রবিবার সকাল ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফা মারধরের পর সানজিদা অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর গৃহবধূর চার ভাসুর, তাদের স্ত্রী ও ননদ বাড়িতে তালা দিয়ে গা-ঢাকা দেন।
স্বামী আজিম উদ্দিন জানান, শনিবার সকালে তাদের দুই বছরের ছেলে সিফাত মিয়া উঠানে মলত্যাগ করলে বড় ভাই হেলাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী মিনা আক্তারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে হেলাল উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, আলাউদ্দিন, সালাহ উদ্দিন, ভাবি ও বোন জেয়াসমিন মিলে লাঠিসোটা দিয়ে তাকে ও স্ত্রীকে মারধর করে।
আজিমের দাবি, রবিবার সকালে কাজে থাকার সময় স্ত্রী ফোনে জানান—শ্বশুরবাড়ির লোকজন আবারও মারধরের চেষ্টা করছে এবং ধারালো কিরিচ দিয়ে আঘাত করছে। কিছুক্ষণ পর ফোন কেটে যায়। পরে জানতে পারেন, স্থানীয়রা সানজিদাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, স্ত্রী আর নেই।
নিহতের মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “মেয়ে ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারছে। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।”
পিতা মাহমুদুল করিম অভিযোগ করেন, “তিন বছর আগে মেয়ের বিয়ে হয়। পরিকল্পিতভাবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে। মামলা করব।”
খবর পেয়ে চকরিয়া থানার পুলিশ সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরে পেকুয়ার মেহেরনামা আবাসন এলাকায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
চকরিয়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। তবে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
কক্সবাজার জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের এএসপি অভিজিত দাস জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর এইচ/
