চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো দুই ব্যক্তির শরীরে জিকা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। সোমবার রাতে নগরীর একটি বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র এপিক হেলথ কেয়ার ল্যাব-এ রক্তের নমুনা পরীক্ষায় এ ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘বেসরকারি এপিক হেলথ কেয়ার ল্যাবের পরীক্ষায় সোমবার রাতে দু’জনের শরীরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি আমরা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-কে জানিয়েছি। তাদের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।’
জানা গেছে, চট্টগ্রামের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়ালিউল্লাহ ও ডা. মো. নুরুন্নবী তাঁদের ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে রোগী দু’জনকে পরীক্ষা করতে এপিক হেলথ কেয়ারে পাঠান। পরে রিপোর্টে জিকা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘বেসরকারি ল্যাবে প্রাথমিকভাবে জিকা ভাইরাসের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এটি কম্বাইন কিটের মাধ্যমে করা হয়েছিল, যা একাধিক ভাইরাস শনাক্তে ব্যবহৃত হয়। ফলে নিশ্চিত হতে আরও কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন।’
চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত পুরুষ রোগীর জ্বর, শরীর ব্যথা ও ত্বক লালচে হওয়ার উপসর্গ রয়েছে। অপরদিকে, আক্রান্ত নারীর জ্বরের সঙ্গে হাত-পা ব্যথা ও ফুলে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা—এই তিনটি রোগই এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। তবে জিকায় ডেঙ্গুর মতো তেমন জীবনঝুঁকি নেই। তবে গর্ভবতী নারীদের জন্য জিকা ভাইরাস ঝুঁকিপূর্ণ, অনাগত শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
আর এইচ/
