পুলিশের লাঠিচার্জকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠে চট্টগ্রামের পটিয়া। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন বুধবার সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধে রূপ নেয়, যা টানা ৮ ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওসি ও কর্মকর্তাদের অপসারণসহ ৩ দফা দাবিতে অনড় অবস্থান নেয়। দুপুর ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হলেও আন্দোলনকারীরা সরে যায়নি। বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনে তারা ৩ দফা দাবি উত্থাপন করে এবং সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী নেতা সায়েদুল বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ ও সেকেন্ড অফিসার আসাদের স্থায়ী অপসারণ করতে হবে।” আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি মানা না হলে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সকালে শুরু হওয়া অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী, রোগী ও পরীক্ষার্থীরা। দিনভর পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, এসিল্যান্ড প্লাবণ কুমার বিশ্বাস ও পটিয়া সেনা ক্যাম্পের মেজর তানজিল নুর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা চালান।
পুলিশের একাধিক দফা লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন আন্দোলনকারী। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আর এইচ/
