ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুতির পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি ও সিএমপি কমিশনারসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) আদালতের নির্দেশে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, টিউলিপ সিদ্দিক, রাদোয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক ও হাছান মাহমুদসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩৫০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মামুন আলী ওরফে কিং আলী মামলার বাদী। ২৭ জুন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক (স্মারক ১৫৬) হালিশহর থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে রুজুর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
মামলাটি তদন্ত করছেন হালিশহর থানার ওসি তদন্ত আবু হানিফ। যার থানা মামলা নম্বর ১০/৮৪। ধারা ৩২৩/৩৩১/৩৭৯/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৮৫/১০৯ পেনাল কোড।
মামলার আরজিতে বলা হয়, বাদী মোহাম্মদ মামুন আলী ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট তার হালিশহরস্থ কে এ জি এন্টারপ্রাইজ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে জন্মদিনের কেক কাটার সময় হালিশহর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রণব চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ অতর্কিতে হামলা চালায়।
পুলিশ উপস্থিত নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করে ও জন্মদিনের কেক এবং আগত নেতাকর্মীদের আপ্যায়নের জন্য আনা খাবার তছনছ করে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বাদীসহ ১৭ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে হালিশহর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তাদেরকে থানার অভ্যন্তরে টর্চার সেলে নিয়ে বেদম প্রহার করা হয়।
ওসির ফোন থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কল করা হলে তিনি বাদীকে হুমকি দিয়ে বলেন, বাদী নাকি কেক না কেটে তার কলিজা কেটেছেন। এ
এ অপরাধে তাকে হত্যা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। একইভাবে শেখ রেহানা ভিডিও কলে বাদীকে গালিগালাজ করে ক্রসফায়ারের হুমকি প্রদান করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালও ফোনে একই ধরণের আচরণ করেন। এসবের পর ওসি বাদীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে এবং তা না হলে ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি দেয়। পরদিন বাদীর পিতা ওসির হাতে ১০ লাখ টাকা তুলে দেন।
মামলায় হালিশহরের সাবেক ওসি প্রণব ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল বাহার, ডা. ফজল আমিনের ছেলে এরশাদুল আমিন, নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এস এম তানভীর আরাফাত, হালিশহর থানার তৎকালীন এসআই জামাল উদ্দিন, মাহবুব মোরশেদ, হিমেল রায়, রেজাউল হোসাইন, জমির উদ্দিন, মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, সোহেল রানা, এএসআই বাবুল মিয়া, জহিরুল ইসলাম ও শরীফ হাসান।
জানা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা বর্তমানে সিএমপির বিভিন্ন থানায় কর্মরত রয়েছেন, যা আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে সাংঘর্ষিক। এছাড়া অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালত-৪-এর বিচারক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মামলাটি তদন্তপূর্বক এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তা কার্যকর হয়নি।
ঘটনার প্রায় ১০ মাস ১ দিন পর, গত ২৬ জুন আবারো আদালতে শুনানি হলে বিচারক সরাসরি মামলাটি এজাহার হিসেবে গন্য করার নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মফিজ উদ্দিন।
আর এইচ/
