চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশদ্বার কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক পুলিশ চেকপোস্টে কার্যত তল্লাশি বন্ধ। চেকপোস্ট থাকলেও রাস্তায় নির্ধারিত প্রতিবন্ধক নেই, নেই নিয়মিত তল্লাশিও।
দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের অনেকে পাশের চায়ের দোকানে বসে মোবাইলে ব্যস্ত কিংবা পান-সিগারেট খেতে দেখা যায়। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই চেকপোস্টের তল্লাশি কার্যক্রম প্রায় অচল। মাদক উদ্ধারের সংখ্যাও কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
ফলে কর্ণফুলী হয়ে নগরীতে ঢুকছে মাদক ও অস্ত্রের চালান। সুযোগ নিচ্ছে মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্র। নামকাওয়াস্তে চেকপোস্ট বসালেও বাস্তবে কর্ণফুলী থানা পুলিশের তৎপরতা নেই বললেই চলে।
অথচ নিয়মিত তল্লাশির মাধ্যমে এই চেকপোস্ট থেকে আগেও প্রায়ই ইয়াবা, ফেনসিডিল, আইস, স্বর্ণের চালান উদ্ধার হতো। এখন ডিবি, র্যাব বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর—এলাকায় অভিযান চালালেও থানা পুলিশের কার্যক্রম নেই বললেই চলে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক সহিংসতায় এই চেকপোস্টে হামলা হয়। পাঁচ-ছয় শতাধিক জনতা বক্স ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৬ লাখ টাকা। মামলা হলেও কার্যকর অগ্রগতি নেই।
পরে একটি সিমেন্ট কোম্পানি নতুন করে পুলিশ বক্স নির্মাণ করলেও তল্লাশি কার্যক্রম ফেরেনি। অলস সময় কাটাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, বন্দর জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে থানা পুলিশের টানাপোড়েন, মাদক উদ্ধার নিয়ে জবাবদিহিতার ‘সন্দেহ’, সোর্স মানি ও সুবিধা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম স্থবির। এসব নিয়ে ওসি মুখ খুলতে রাজি নন।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, টেকনাফে সেনা কর্মকর্তা সিনহা হত্যা মামলার পর সারাদেশেই চেকপোস্ট তল্লাশি শিথিল হয়। তবে কর্ণফুলীতে এখন যে অবস্থা চলছে, তা আরও ভয়াবহ।
স্থানীয়দের মতে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রবেশপথে অবস্থিত মইজ্জ্যারটেক চেকপোস্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে এখান থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান ধরা পড়ত। চেকপোস্টটি সচল না থাকায় এসব মাদক সহজেই চট্টগ্রাম হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত এই চেকপোস্ট সচল না হলে কর্ণফুলী হয়ে মাদকের বানের জলে ডুবে যাবে পুরো চট্টগ্রাম তথা সারাদেশ।
এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘ওখানে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। কোনো শিথিলতা নেই।’ তবে প্রতিবেদকের তিন মাসের অনুসন্ধানে পুলিশের এই ‘সক্রিয়তা’র মিল পাওয়া যায়নি। কর্ণফুলী থানার মাদক উদ্ধার সংক্রান্ত মামলার তথ্য-উপাত্তও সেই প্রমাণ দেয়।
বন্দর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চলছে। এখন হয়তো আগের মতো অপরাধ হচ্ছে না। পুলিশের গাফিলতির সুযোগ নেই। গতকাল ভোরেও আমি নিজে ওসির সঙ্গে ওই এলাকায় ছিলাম।’
আর এইচ/
