চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠে বসানো অঘোষিত পশুর হাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়েছে রিয়াদ হোসেন (১৫) নামে এক কিশোর।
হাটে কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না, ছিল না বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কোনো নিরাপত্তাও। বুধবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উঠছে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা ও রাজনৈতিক সমর্থনের প্রশ্ন।
চিকিৎসকদের ভাষায়, কিশোরটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, বড়উঠানের বাসিন্দা রিয়াদ বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে হাটে গিয়েছিল। হাটের ভেতরে হেঁটে যাওয়ার সময় হাসপাতালের দেয়াল ঘেঁষে ঝুলে থাকা একটি খোলা বৈদ্যুতিক তারে হাত লাগাতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে।
বাজারটি ‘ফকিরনীর হাট’ নামে পরিচিত। প্রতি বুধবার বসে। তবে এটি কোনো সরকারি ইজারাভুক্ত হাট নয়। বরং স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় ‘আড়ালভিত্তিক অনুমোদন’ নিয়ে মাঠ দখল করে চলছে পশু কেনাবেচা।
জানতে চাইলে বড়উঠান ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বাজারটির কোনো ইজারা নেই। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু মানুষ সহযোগিতা করছে।”
আর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা বলেন, “সড়কে যানজট এড়াতে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।” কিন্তু ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোর দগ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
তবে দুর্ঘটনার পরও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না বিদ্যুৎ লাইনের মালিকানা কাদের! পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ—উভয় সংস্থাই দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একজন বলছেন, “ওটা আমাদের না”, আরেকজনের জবাব, “এটা ওদের”।
এমন বৈদ্যুতিক অরাজকতার মধ্যেই হাসপাতাল সংলগ্ন জায়গায় অনিয়ন্ত্রিত পশুর হাট—যেখানে প্রতিদিন ভিড় করেন শত শত মানুষ, ঘোরে অসংখ্য শিশু-কিশোর।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জেবুন নেসা বলেন, “বিষয়টি আগে জানতাম না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাঠটি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন ঘটনার তদন্ত করবো।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—একটি সরকারি হাসপাতালের সীমানায় ইজারাবিহীন হাট, বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ছাড়াই লাইনের ব্যবহার, এবং প্রশাসনের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে ‘চোখ বন্ধ’ রাখা—দায় আসলে কার?
এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, হয়নি কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা। এদিকে রিয়াদের পরিবার শঙ্কায়—জীবন বাঁচবে তো?
আর এইচ/
