পটিয়ায় নির্বাচন অফিসে তথ্য যাচাই করতে আসা মোহাম্মদ সাবেত নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মোহাম্মদ সাবেত (৪০) কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্প-বি ব্লক ১৮ এর বাসিন্দা এবং মায়ানমারের বুতিদং শহরের মুনিং এলাকার আবদুল হাকিমের পুত্র।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায় , রোহিঙ্গা নাগরিক আনোয়ার কামালের জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার কার্ড) নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে লক হয়ে যাওয়ায় নাগরিক সেবা বন্ধ হয়ে যায়। নিজে উপস্থিত না হয়ে আনোয়ার কামাল মোহাম্মদ সাবেতকে পাঠান পটিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে তথ্য যাচাই করতে। অফিসে উপস্থিত হওয়ার পর সন্দেহজনক আচরণের কারণে নির্বাচন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম তার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে ঢুকে দেখা যায়, আনোয়ার কামালের পরিচয়পত্র লক করা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ সাবেত স্বীকার করেন যে তিনি মায়ানমারের নাগরিক। এরপর তাকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের কাছে সোপর্দ করা হয়।
দুই রোহিঙ্গার পরিচয় , মোহাম্মদ সাবেত মায়ানমারের নাগরিক, বর্তমানে কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্প- বি ব্লক ১৮ এর বাসিন্দা। তিনি পটিয়ার আল জামিয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার এসএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র।
আনোয়ার কামাল কক্সবাজারের ক্যাম্প-১৭ এর বাসিন্দা। নিজেকে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভোটার হয়েছেন।
পটিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, ক্যাম্প থেকে পালিয়ে তথ্য গোপন করে ভোটার হয়েছেন । আনোয়ার কামালের ভোটার আইডি লক থাকায় নাগরিক সেবা বন্ধ রয়েছে। সন্দেহজনক কার্যক্রমের কারণে মোহাম্মদ সাবেতকে আটক করা হয় এবং পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় ।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক ইয়ামিন সুমন জানান, আটককৃত রোহিঙ্গা নাগরিক কে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা নাগরিকদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে পটিয়া থানা এলাকায় অপরাধমূলক ঘটনা বাড়ছে।”
