চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড.কর্ণেল (অব.)অলি আহমদ বীর বিক্রমের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক সানি দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাবার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাকালে হামলার ঘটনায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখ ও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামাসহ ৭৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ আগষ্ট) এলডিপি নেতা ছরওয়ার জামাল বাদী হয়ে কর্ণেল অলির ছেলেকে হত্যার চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে সাতকানিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
বিগত ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর সাতকানিয়া থানায় দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের হয়। মামলার অন্যতম আসামিরা হলেন, সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী, তাঁর ভাই জসিম উদ্দিন চৌধুরী মন্টু, চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার চৌধুরী, তাঁর ভাই আবাসন ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, বাজালিয়া ও কেঁওচিয়া ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদের চেয়ারম্যান যথাক্রমে তাপস কান্তি দত্ত, ওচমান আলী, কেঁওচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাষ্টার মো. ইউনুচ, সাধারণ সম্পাদক রিপন দাশ সুজন, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, উত্তর সাতকানিয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ছালেহ শান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। এ ছাড়া মামলায় উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী ও একজন শিল্পপতিকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৮ সালের (৩০ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে ছাতা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর (কর্ণেল অলি) ছেলে (১৫ ডিসেম্বর) অধ্যাপক ওমর ফারুক সানি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী সাইক্লোন সেল্টারের পশ্চিম পার্শ্বে আলম কাজী জামে মসজিদ এলাকায় বাবার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিল। এ সময় সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী, তাঁর ভাই জসিম উদ্দিন চৌধুরী মন্টু, চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জাব্বার চৌধুরী, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও হাবিবুর রহমানের নির্দেশে ও নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা চালায় এবং অধ্যাপক সানিকে হত্যার চেষ্টা চালায়।
মামলার বাদি ছরওয়ার জামাল জানান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক সানির নেতৃত্ব আমাদের নেতা-কর্মীরা বহর নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে পৌঁছার সাথে সাথে পূর্বে থেকে ওৎ পেতে থাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা প্রথমে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি চালিয়ে পুরো এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। এরপর তারা ধারালো অস্ত্র, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে কর্নেল অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক সানিকে হত্যার চেষ্টা ও প্রচারণায় অংশ নেয়া এলডিপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদেরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এলডিপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া শিমুল বলেন, ঘটনার পর থানায় মামলা নিয়ে গেলেও তৎসময়ের ওসি শফিউল কবীর মামলা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে আমরা মামলা করতে পারিনি। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ঘটনায় যারা জড়িত ও অর্থের যোগান দিয়েছে শুধুমাত্র তাদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখানে কোন নিরীহ লোককে আসামি করা হয়নি।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু হয়ে গেছে।
