হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর এখন রিমান্ডে আছেন গণ-অভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, এক উপদেষ্টা এবং সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত এক কর্মকর্তা। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা কেউ অভিযোগ স্বীকার করছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর থেকেই ভেঙে পড়েন জুনাইদ আহমেদ পলক। জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোনো তথ্য দিতে পারছে না। প্রশ্ন করলেই মাথা নিচু করে কাঁদছেন। বেশিরভাগ সময় তিনি কান্নাকাটি করছেন। এমনকি নিজের মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজের দায়-দায়িত্ব নিতেও অস্বীকার করে যাচ্ছেন।
পলক বলেছেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার বিষয়ে তার একক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সায় ছিল। একইসঙ্গে এনটিএমসির মহাপরিচালক সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নির্দেশনা মেনে তিনি ইন্টারনেট শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান।
জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আওয়ামী সরকারের পতন এতো দ্রুত হতে পারে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। চাইলে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারতেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘বেঈমানি করা হবে’ বলে তিনি যাননি। তবে, স্ত্রী-সন্তানদের বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রিকশাচালক কামাল মিয়া। এ ঘটনায় পল্টন থানায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হন সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক এবং ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান। নিরাপত্তার কারণে তাঁদেরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে রাখা হয়। থানা-পুলিশ হত্যা মামলার বিষয়ে খোঁজখবর নিলেও সার্বিক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবির গুলশান বিভাগ।
