সারাদেশের মতো আনোয়ারা উপজেলায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এবারে আনোয়ারায় ৮৪.৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এ উপজেলায় শীর্ষ স্থানে অর্জন করেছে কাফকো স্কুল এন্ড কলেজ। সবার তলানিতে অবস্থান করছে মেরিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ।
এদিকে গতবারের তুলনায় আনোয়ারায় বেড়েছে পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। উপজেলায় এবারের পাশের হার ৮৪.৭৮ শতাংশ। যা গতবারের তুলনায় ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি । একইভাবে বেড়েছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা।
রবিবার (১২ মে ) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ও আনোয়ারা শিক্ষা অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলার ২৬ টি স্কুলে এবার পরীক্ষার্থী ছিল ৪০৬৬ জন। তার মধ্যে পাশ করেছে ৩৪৪৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮০ জন। যা গতবারের তুলনায় ৫০ জন বেশি । গতবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ছিল ১৩০ জন।
২৬টি বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ পেয়ে এবারও ফলাফলে উপজেলার প্রথম হয়েছে কাফকো স্কুল এন্ড কলেজ। তার পরে রয়েছে সিইউএফএল স্কুল এন্ড কলেজ ও আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ।
অপরদিকে দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ১১টি মাদরাসার মধ্যে ৬৩৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হয়েছে ৫৪১ জন। পাশের হার ৮৪.৯৩%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬জন।
১ম স্থান : কাফকো স্কুল এন্ড কলেজে ২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ২৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন। পাশের হার: ১০০ শতাংশ।
২য় স্থান : সিইউএফএল স্কুল এন্ড কলেজে ৮৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ৮২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২ জন। পাশের হার: ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।
৩য় স্থান : আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ৯২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাশের হার: ৯৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ৷
৪র্থ স্থান : পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১১২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। পাশের হার: ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
৫ম স্থান: হাইলধর বশিরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষাকেন্দ্রে ১১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১০৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাশের হার: ৯২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
৬ষ্ঠ স্থান: গুয়াপঞ্চক হাই স্কুলে ১৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১৩৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাশের হার: ৯২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
৭ম স্থান: আনোয়ারা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ২১০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন। পাশের হার: ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ।
৮ম স্থান : পীরখাইন মাওলানা আশরাফ চৌধুরী হাই স্কুল থেকে ১২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১০৮ জন। ফেল করেছে ৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার: ৮৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।
৯ম স্থান : তৈলারদ্বীপ বারখাইন এর্শাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১০১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাশের হার: ৮৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
১০ম স্থান: বরুমচড়া শহীদ বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ২১৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। পাশের হার: ৮৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
১১তম স্থান : ঝি.বা.শি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১০৬ জন। জিপিএ-৫ ৬ জন । পাশের হার: ৮৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
১২ তম স্থান: রায়পুর ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ২৫৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১জন। পাশের হার: ৮৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
১৩ তম স্থান: কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ৯৬ জন। জিপিএ-৫ কেউ পায়নি। পাশের হার: ৮৫ দশমিক ৭১ শতাংশ৷
১৪ তম স্থান: দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১৭২জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ জন। পাশের হার: ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
১৫ তম স্থান: মাহাতা পাটনীকোটা হাই স্কুলে ১৬৪ আওজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১৩৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১জন। পাশের হার: ৮২ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
১৬ তম স্থান: খাসখামা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ২৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাশের হার: ৮২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
১৭ তম স্থান: চাতরী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাশের হার: ৮২দশমিক ৩৪ শতাংশ৷
১৮ তম স্থান: জে.কে.এস উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১৭২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন । পাশের হার: ৮২ দশমিক ৩১ শতাংশ।
১৯ তম স্থান: পূর্ব বরৈয়া টি এম সি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১০৭ জন। পাশের হার: ৮২ দশমিক ৩১ শতাংশ৷
২০ তম স্থান: বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া রহঃ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ২৯৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন। পাশের হার: ৮১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
২১ তম স্থান: হাজীগাঁও শোলকাটা এস জে নিজাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ৭৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন । পাশের হার: ৮০ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
২২ তম স্থান:উপকূলীয় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১৫২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পাশের হার: ৮০ দশমিক ০৬ শতাংশ৷
২৩ তম স্থান:সিংহরা রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ৮৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পাশের হার: ৭৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
২৪ তম স্থান:বখতিয়ার পাড়া চারপীর আউলিয়া রহঃ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ২১৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন । পাশের হার: ৭৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
২৫ তম স্থান:মেরিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজে ২১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ১৫৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাশের হার: ৭৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।
২৬ তম স্থান: পরৈকোড়া নিত্যনন্দন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ হয়েছে ৪১ জন। জিপিএ-৫ কেউ পায়নি । পাশের হার: ৬৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন জানান, করোনা পরবর্তী গতবারের চেয়ে ফলাফল এবার একটু ভালো হয়েছে। তবে আশানুরূপ ফল হয়নি। তুলনামূলক ভাবে গতবারের তলানিতে থাকা কয়েকটি বিদ্যালয় এর ফলাফল ভালো হলেও কিছু বিদ্যালয়ের ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে পারিনি।
