রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

সাগরে ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা: ফিরছে আনোয়ারার জেলেরা

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন :

 ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আজ ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। দুই মাস পর ফের সাগরে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন হাজার হাজার জেলে ও বোট মালিকরা।

এদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে প্রজনন মৌসুমে মা ও জাটকা ইলিশ নিধন রোধে গত ২০মে হতে ২৩জুলাই পর্যন্ত চলমান ছিল সাগরে নিষেধাজ্ঞা। তবে ৬৫ দিনের মৎস্য আহরণের নিষেধাজ্ঞার পর ইলিশের ভরা মৌসুমেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ।

উপকূলের জেলেরা জানায়, ভরা মৌসুমে তো ইলিশ পেলাম না তবে সরকার থেকে সাগরে আবারও নিষেধাজ্ঞা পেয়েছি। এই নিষেধাজ্ঞা তো আমাদের পেট পরিবার মানে না। পেটের জালায় ঋণগ্রস্থ হতে হয়। অন্য কাজ করার সুযোগ থাকে না আমাদের। সরকারে চাল দিয়ে সহযোগিতা করে তাও অধিকাংশ জেলেদের কপালে জুটে না। প্রভাবশালীরা ভাগ ভাটোয়ারা করে খেয়ে পেলে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা গহিরা উপকূল থেকে ছোট- বড় মিলে সাগরে মাছ মাছ ধরতে যায় প্রায় ৯১০টি নৌকা। তার মধ্য থাকে উপজেলার জুঁইদন্ডি এলাকার ১১০টি, ফকিরহাট থেকে সরেঙ্গা পর্যন্ত ১৭০টি , পারকিতে ১৮টি, সব চেয়ে বড় ঘাট এলাকা উঠান মাঝির ঘাটে ২৮০টি। অন্য নৌকাগুলো সাত্তার মাঝির ঘাট, গলাকাটা ঘাট, পিচের মাথা, বাছা মাঝির ঘাট এলাকার। এসব নৌকা করে মাছ ধরতে যায় অন্তত ১০হাজার জেলে।

এবারের মৌসুমে ইলিশ না পাওয়ার বিষয়ে গহিরা ওঠান মাঝির ঘাট এলাকার জেলেরা জানান মাছ না পাওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এবার বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়া, অমাবস্যা পরবর্তী সময় ও নিষাধাজ্ঞা সময়ে অবাধে মা মাছ ধরা। গত ৬৫দিন নিষেধাজ্ঞা সময়ে নোয়াখালী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, হাতিয়াসহ বাইরের বড় বড় ফিশিং ট্রলারের মাধ্যমে মা মাছ ধরে নিয়ে যায়। যার ফলে ইলিশের ভরা মৌসুমে ইলিশ পায়নি আনোয়ারার জেলেরা।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা সময়ে সাগর উপকূলের জেলেদের জন্য মৎস্য আহরণে নৌপুলিশ ও মৎস্য অফিস কঠোর হলেও সাগরে অবাধে মাছ ধরে নিয়ে যায় নোয়াখালী, সন্দ্বীপ ও হাতিয়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় বড় ফিশিং বোট গুলো। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা কী শুধু আনোয়ারার জেলেদের জন্য থাকে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সাগরে বড় বড় বোট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ নিধন করে। স্থানীয় জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মানলেও অতিরিক্ত দামের আশায় কোনো নির্দেশনা মানছেন না বাইরের জেলেরা। বঙ্গোপসাগরে নির্বিচারে ডিমওয়ালা ও জাটকা ইলিশ শিকার করছে তারা। যার ফলে এই ভরা মৌসুমে আমরা ইলিশ পাই নাই।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ নৌপুলিশ ও প্রশাসন বাইরের জেলেদের মাছ ধরার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়ে থাকে না। তারা শুধু আমরা স্থানীয় জেলেদের উপর হস্তক্ষেপ করে থাকে। নৌ পুলিশের সাথে বিশেষ বাণিজ্য করে নিষেধাজ্ঞা সময়ে মা ইলিশ ধরে বাইরের জেলেরা। বিশেষ করে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত নৌ পুলিশরা এই কাজের সাথে জড়িত বলে জানান তারা।

এবিষয়ে নৌপুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, আমরা চেষ্টা করে থাকি মা মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞা সময়ে জেলেদের বিরত রাখতে হবে। সাগরের গভীরে যাওয়ার মতো আমাদের শক্তিশালী কোন বোট নেই। এটা সব প্রশাসনকে সমন্বয় করে অপারেশন পরিচালনা করতে হবে। সাগরে টহল জোরদার করলে নিষেধাজ্ঞার সুফল পাওয়া যাবে।

উঠান মাঝির ঘাট কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, মাছ ধরার এই দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞায় উপকূলের মানুষরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সবাই আড়তদার, মহাজন, ব্যাংক বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে সাগরে মাছ ধরার কাজে লাগায়। এখন দীর্ঘ সময় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় এসব লোন নিয়ে বিপাকে পড়েছে ট্রলার মালিকরা। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী গহিরা ও রায়পুর এলাকার হাজার হাজার জেলে পরিবার খুবই কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। চলমান ৬৫ দিনের দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার পর আবারও সরকারের ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬৫দিন নিষেধাজ্ঞার পর ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। এই ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অমান্যকারী কমপক্ষে এক থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে প্রজনন মৌসুমে মা সাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসময় উপকূল সংলগ্ন ৬টি ইউনিয়নের ২৫শ জেলেকে ২৪ কেজি করে চাল দেয়া হবে। জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রামনিউজ.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, মতামত, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি । আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@chattogramnews.com ঠিকানায়।

সর্বশেষ

লালদিয়া টার্মিনাল হবে বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব : অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, লালদিয়া...

বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়ো দুধে ডেট টেম্পারিং, চিটাগাং ডেইরি ফুডকে সাড়ে ৪ লাখ জরিমানা

বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই লোগো ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়ো দুধের তারিখ...

বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু

বোয়ালখালীতে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে পম্পী বড়ুয়া...

মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি সাঈদ, সম্পাদক মাঈন উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ শিবলু

মিরসরাই প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠিত...

আলোকিত মানুষ হতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই: ডা.আব্দুন নূর তুষার

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চট্টগ্রাম মহানগর স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচীর পুরস্কার...

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা সার জব্দ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত লাগোয়া রামুর গর্জনিয়ায় কৃষি কর্মকর্তাসহ...

আরও পড়ুন

মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি সাঈদ, সম্পাদক মাঈন উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ শিবলু

মিরসরাই প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার মহামায়ায় একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভার প্রথম অধিবেশনে ভোটারদের...

আলোকিত মানুষ হতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই: ডা.আব্দুন নূর তুষার

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চট্টগ্রাম মহানগর স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচীর পুরস্কার বিতরণ উৎস ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকালে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন...

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা সার জব্দ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত লাগোয়া রামুর গর্জনিয়ায় কৃষি কর্মকর্তাসহ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩৯ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার সার আটক করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১...

দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভাবে হতাশায় ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা রাউজানের টিটু দাশের

দোকান ছিল; ব্যবসা করে এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে শহরে মোটামুটি ভালোই চলছিল রাউজান নোয়াপাড়া এলাকার টিটু দাশের সংসার।এক সময় দোকানে বকেয়া এবং বেচা...